অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অন্যান্য আজকের প্রধান খবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাণীনগর তারানগর স:প্রা:বি: প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলী ইউনিয়নের ৭৪নং রাণীনগর তারানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম বিদ্যালয়ে না এসেও বছরের পর বছর বেতন তুলে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার টিকরামপুর গ্রামের আব্দুল করিম প্রধান শিক্ষক হওয়ার কারনে প্রভাব খাটিয়ে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের এ প্রতিষ্ঠানটিতে চাকুরীকরা কালীন সময়ে তিনি প্রতিষ্ঠানে ক্লাসে ঠিকমত আসেননি বলে জানান ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবকবৃন্দ। আব্দুল করিম প্রতিষ্ঠানটিতে ২০১৮ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৫০জন শিক্ষার্থী লেখা-পড়া করে। এ প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জন সহকারি শিক্ষক রয়েছে এবং শুধু মাত্র ১জন শিক্ষক মোঃ শামসুল হক প্রতিদিন স্কুলে আসলেও বাকী দুই জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের আশির্বাদতুষ্ট হয়ে তারাও স্কুলে আসেন না বলে জানান ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাকমন্ডলী। বাকী ২ জন শিক্ষক যারা বিদ্যালয়ে আসেন না তারা হলো দেবীনগর ইউনিয়নের মামলত বিশ্বাসের টোলার সহকারি শিক্ষক তারেক আজিজ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে এযাবত মোট ৪ দিন বিদ্যালয়ে এসেছে এবং এসে হাজিরা খাতার অতিতের হাজিরাগুলো এক সাথে স্বাক্ষর করে নিয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। মহারাজপুর ইউনিয়নের মুন্সিমন্ডলের টোলা গ্রামের সহকারি শিক্ষক আমিরুল ইসলাম ইসলামও অনুরুপ পূর্বের স্বাক্ষরগুলো এক সাথে করে নেয়। মহান পেশা শিক্ষকতার আড়ালে তারা ছাত্র/ছাত্রীদের জীবন নিয়ে খেলা করেছেন বৈকি। শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে না আসার কারনে ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বিল্ডিং, টুলবেঞ্চ ঠিকঠাক থাকলেও প্রধান শিক্ষকের অসাধু উপায় অবলম্বনের কারণে ছাত্র/ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক ও পিয়ন ব্যতিত আর কোন শিক্ষক নেই। ছাত্র/ছাত্রীরা হরদম খেলে বেড়াচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্র/ছাত্রীদের থেকে টাকা দিব বলে প্রায় ২২৬০/- টাকার হাঁস, মুরগী নিয়ে গেলেও তাদেরকে টাকা না দিয়ে তালবাহানা করছেন। প্রধান শিক্ষক যেসব মুরগী ও হাঁস নিয়ে গেছেন সেগুলো বিদ্যালয়ের পার্শ্বের বাড়ীর মিলন ডাক্তারের নিকট থেকে পাখা ছাড়িয়ে পরিস্কার করে নিয়ে গেছেন। এমপি হারুনুর রশিদ আলাতুলী ইউনিয়নের প্রতিটি স্কুলে ১ জন করে প্যারা শিক্ষক দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই সুযোগটি আব্দুল করিম মাস্টার লুফে নিয়ে তিনি শরিফুন নেসার নিকট থেকে ১০ হাজার, শ্রী মিলন সাহার ১১৫০০/-, শ্রী চন্দনা রানী সাহা ১১৭৫০/- মোট ৩৩,২৫০/- টাকা হাতিয়ে নেন এছাড়াও আবুল কাসেম (মাঝি) এর নিকট থেকে কর্জ হিসেবে ২০,০০০/- টাকা নেন যা এখন পর্যন্ত দেননি। এ তিন জনের কাওকেই প্যারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না দিলেও তাদের টাকাগুলো এখন পর্যন্ত ফেরত দেয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে না আসা ও তার দুর্নীতির বিষয়ে সহকারি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট অভিযোগ দেয়া হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।  এ বিষয়ের অভিভাবক আলমগীর হোসেন মিঠু, সদস্য মোঃ শওকত আলী, সহ সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল হোসেন এর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন প্রধান শিক্ষক একেবারেই বিদ্যালয়ে আসেন না। তিনিসহ আরো ২ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন না। ফলে আমাদের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নূর-উন-নাহার রুবিনার নিকট মোবাইলে জানতে চাওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। শিশুদের লেখাপড়া যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে জন্য দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের বাদ দিয়ে ভালো শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উন্নীত করণে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর আবেদন জানিয়েছেন রানীনগর তারানগর বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবক মন্ডলী।